বাণিজ্য ও অর্থনীতি

যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাবে সংকুচিত হবে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি: আইএমএফের পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের দূরপ্রসারী প্রভাবে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকোচনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি শূন্য দশমিক তিন শতাংশ হ্রাস পাবে, যা গত এপ্রিল মাসের প্রক্ষেপিত এক দশমিক নয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় একটি অত্যন্ত নাটকীয় অবনমন।

• • ৪ বার পঠিত
যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাবে সংকুচিত হবে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি: আইএমএফের পূর্বাভাস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র যুদ্ধবিগ্রহ এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মারাত্মক ধাক্কা সরাসরি আঘাত হেনেছে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের দীর্ঘমেয়ায়ী সংঘাতের ফলস্বরূপ ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির শিকার হবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল যখন ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে, তখন এই অঞ্চলটিই বৈশ্বিক পরিসরে একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে অর্থনৈতিক সংকোচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। অথচ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত প্রাক্কলনে এই অঞ্চলে ১.৯ শতাংশ সম্প্রসারণ বা প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল, যা বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তীব্রভাবে নিচে নেমে শূন্য দশমিক তিন শতাংশ সংকোচনে গিয়ে ঠেকেছে।

এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধসের প্রধান অনুঘটক হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী নৌপরিবহন ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতাকে দায়ী করেছে আইএমএফ। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ যে অতি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে চলমান বাধা ও উত্তেজনার কারণে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম অনিশ্চয়তার আবর্তে পড়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো এই আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত, ইরাক এবং কাতারের অর্থনীতিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে দেশগুলোর জিডিপি যথাক্রমে ১৬.৭ শতাংশ, ১৬ শতাংশ এবং ১৫.৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া বাহরাইনের অর্থনীতি ১১.৩ শতাংশ এবং ইরানের অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ হ্রাসের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পরিমাণ বাড়িয়ে জ্বালানি খাতের প্রাথমিক ধাক্কা কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দেশটির অর্থনীতিতেও ৩.৩ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। তবে এই অঞ্চলের বাইরে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কিরগিজস্তান ব্যতিক্রমীভাবে উজ্জ্বল অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দেশটির জিডিপি প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যেখানে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশিয়ার জিডিপি ৫.১ শতাংশ, সাব-সাহারান আফ্রিকা ৪.৫ শতাংশ এবং ল্যাটিন আমেরিকার অর্থনীতি ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার এই মন্দা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার মতে, বিশ্ব অর্থনীতি সামগ্রिकভাবে ৩.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের পরিবর্তনশীল প্রত্যাশা, নতুন বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ক্রমবর্ধমান রাজকোষ দুর্বলতার মতো বহুমুখী ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতিকে এখনও চাপে রাখছে।