বাণিজ্য ও অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালীতে সারের চালান আটকে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সতর্কতা

হরমুজ প্রণালীতে সারবাহী জাহাজ চলাচলের প্রস্তাবিত জাতিসংঘের পরিকল্পনা থমকে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে আসন্ন এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

• • ৬ বার পঠিত
হরমুজ প্রণালীতে সারের চালান আটকে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সতর্কতা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে লাগাতার বিঘ্নের ফলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব ও ভয়ংকর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএনওপিএস-এর প্রধান হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা সম্প্রতি এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার সরবরাহ পুনরায় চালুর জন্য জাতিসংঘের তৈরি করা বিশেষ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নিরাপদ চলাচলের শর্ত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দরকষাকষি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে প্রস্তাবিত এই আস্থা সৃষ্টিকারী ব্যবস্থাটি থমকে রয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী কৃষিপণ্য উৎপাদন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত জরুরি সারবাহী জাহাজগুলোর চলাচল নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ওমানে একটি বিশেষ সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন বন্দর থেকে কার্গো লোডিং তদারকি করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জাতিসংঘের স্বাধীন পরিদর্শকদের নিয়োজিত রাখার কথা বলা হয়েছিল। প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি করে সারবাহী জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ট্রানজিটের অনুমতি দিলেই সংকটাপন্ন দেশগুলোর সার চাহিদা অনেকাংশেই মিটিয়ে ফেলা সম্ভব বলে জাতিসংঘ বারবার দাবি করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ায় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি অর্জিত হচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে বর্তমান উদ্ভিদ রোপণ মৌসুমের ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী কৃষির উৎপাদনশীলতা অভূতপূর্ব হারে কমে যাবে। আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্সের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, হরমুজ করিডোরে এই বিঘ্নতা অব্যাহত থাকলে শস্যের দাম ৮১ শতাংশ, তৈলবীজের দাম ৬৬ শতাংশ এবং পশুজাত পণ্যের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষ এই তীব্র খাদ্য ঘাটতি ও আকাশচুম্বী মূল্যের শিকার হয়ে চরম ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শনের এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পথ প্রশস্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
#UN #HormuzStrait #FoodCrisis #FertiliserShortage #GlobalEconomy