আফ্রিকা

কেন যুক্তরাজ্য কেনিয়ায় সামরিক মহড়া বাতিল করেছে?

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেনিয়ায় নির্ধারিত একটি সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়া ('হারাডা স্টর্ম' বা Haraka Storm) বাতিল করেছে, কারণ কেনিয়া সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন সময়মতো পাওয়া যায়নি।

২৪ বার পঠিত
কেন যুক্তরাজ্য কেনিয়ায় সামরিক মহড়া বাতিল করেছে?
এই বাতিলের মূল কারণ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে মতপার্থক্য। কেনিয়ার সংসদ সদস্য ও নীতিনির্ধারকরা বিদ্যমান চুক্তিটি অনুমোদন বা নবায়ন করতে গড়িমসি করছিলেন। তাদের মূল আপত্তি ছিল—কেনিয়ার মাটিতে ব্রিটিশ সেনারা কোনো অপরাধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাদের বিচার ও আইনি জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

ব্রিটিশ আর্মি ট্রেনিং ইউনিট কেনিয়া (BATUK)-এর কার্যক্রম এবং অতীতে ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ বা মানবাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে কেনিয়ার রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা এবং অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি এখতিয়ার রাখার দাবির কারণে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

এর ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য কী?

ঐতিহাসিক সম্পর্কে টানাপোড়েন: কেনিয়ায় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি কয়েক দশকের পুরনো। কিন্তু এই বাতাসের ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও আইনি উত্তেজনাই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

এই ঘটনাটি পরিষ্কার করে দেয় যে, আধুনিক রাষ্ট্রে বিদেশি সামরিক শক্তির উপস্থিতির ক্ষেত্রে স্থানীয় সার্বভৌমত্ব, আইনি এখতিয়ার এবং জনস্বার্থের বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কেনিয়া সরকার দেখাতে চেয়েছে যে বিদেশি কোনো বাহিনী তাদের আইনি কাঠামোর ঊর্ধ্বে নয়।

এই মহড়া বাতিল হওয়ায় কেনিয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যারা এই সামরিক মোতায়েনের সুবাদে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতেন।
এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা বন্ধ না হলেও, প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোতে স্থানীয় বিচারব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আরও কঠোর ও নতুন শর্ত যুক্ত হতে পারে।