সংবাদ

মোদি সরকারের পতনের ডাক রাহুল গান্ধীর

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম সংকট, প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং টানা কয়েক সপ্তাহের ছাত্র অসন্তোষের মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতনের সরাসরি ডাক দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

২৪ বার পঠিত
মোদি সরকারের পতনের ডাক রাহুল গান্ধীর
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও রাজপথে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় এবার বিষয়টিকে জাতীয় রাজনীতিতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছেন জাতীয় কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দেশের কোটি কোটি তরুণ ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে এবং প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি দেশবাসীকে মোদি সরকারের অন্যায্য নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে নামার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই শেষ কথা হতে পারে না, কারণ মূল সমস্যা রয়েছে মোদি সরকারের নীতি ও প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট হওয়া এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের জন্য তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেন। রাহুল গান্ধীর মতে, বিজেপি সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং সাধারণ তরুণদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভারতের ছাত্র ও যুবসমাজ আজ রাজপথে নেমে যে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা কেবল শিক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষার লড়াই নয়, বরং ভারতের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই। এই জনরোষ প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ মোদি সরকারের দুর্নীতি ও জবাবদিহিতাহীন শাসন থেকে মুক্তি চাইছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেন যে, কংগ্রেস সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) তরুণ সমাজের এই আন্দোলনের পাশে পূর্ণ সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, মোদি সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তাদের অর্জিত শিক্ষা ও মেধার মূল্যায়নও কেড়ে নিচ্ছে। সরকার যতক্ষণ না পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, দায়ের করা সব আইনি মামলা প্রত্যাহার এবং শিক্ষা খাতে আমূল প্রশাসনিক পরিবর্তনের সব দাবি মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন রাজপথের পাশাপাশি সংসদেও সমান তালে চলবে।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের এই কঠোর অবস্থান মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশের নানা প্রান্তে যখন তরুণ সমাজ 'কাকরোচ জনতা পার্টি' ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে, তখন রাহুল গান্ধীর এই সরকার পতনের ডাক আন্দোলনকে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিরোধী নেতারা মনে করছেন, শিক্ষা খতের এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি এবং জন অসন্তোষের প্রভাবেই বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক দুর্গের ভিত কেঁপে উঠেছে।

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ও সরকার পতনের ডাককে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো তরুণদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইছে বলেও বিজেপি নেতারা অভিযোগ তুলছেন। তবে রাজনীতির ময়দানে পাল্টা পাল্টি বক্তব্য সত্ত্বেও, আন্দোলনরত তরুণেরা ও বিরোধী জোট নিজেদের দাবির পক্ষে অনড় অবস্থান বজায় রেখে রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রেখেছে।