স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
কঙ্গোয় ছড়াচ্ছে ভয়াবহ ইবোলা: প্রাণহানি এক হাজার ছুঁইছুঁই
মধ্য আফ্রিকার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ২,৪০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং অন্তত ৯৯৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসাসামগ্রীর চরম সংকটের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খনিজ সমৃদ্ধ ইতুরি প্রদেশের রোয়ামপারা ও মংবোয়ালু নামের দুটি খনি শহরে প্রথম ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে এটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ইতুরি, উত্তর কিভু ও উত্তরের হাউত-উয়েলেসহ অন্তত পাঁচটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের প্রাদুর্ভাবটি অত্যন্ত বিরল 'বুন্দিবুগিও' (Bundibugyo) ভাইরাসের প্রজাতির কারণে ঘটেছে, যার জন্য কার্যকর বা নিবন্ধিত কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা কিংবা ওষুধ নেই। ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ এবং রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রেয়েসুস সতর্ক করে জানিয়েছেন, কঙ্গোর ইতিহাসে যেকোনো পূর্ববর্তী প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এটি সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইবোলা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইতুরি অঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। আইএসআইএল (আইসিস) সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এডিএফ-এর (Allied Democratic Forces) অব্যাহত হামলা ও সহিংসতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। সহিংসতা থেকে বাঁচতে কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উপচে পড়া শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে চরম স্যানিটেশন সংকট ও ঘনবসতির কারণে ভাইরাসটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ডাক্তারের সীমানাহীন সংগঠন (MSF)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল রোগীর যোগাযোগের তালিকা তৈরি বা কন্টাক্ট ট্রেসিং করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, যা মোট আক্রান্তের মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এর ওপর সঠিক সুরক্ষাসামগ্রী না থাকায় আক্রান্তদের সৎকার করতে গিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সংক্রমিত হচ্ছেন, যেখানে প্রতিটি মৃতদেহ থেকে গড়ে অন্তত ১৭ জন নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
সংকটের গভীরতা বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতন এবং চিকিৎসকদের কর্মবিরতি। বেতনভাতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহের দাবিতে স্থানীয় শত শত স্বাস্থ্যকর্মী ধর্মঘট পালন করায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও কঙ্গো থেকে আসা সীমান্ত অতিক্রমকারী নাগরিকদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক উদ্বেগের জন্ম সৃষ্টি হয়েছিল, তবে উগান্ডা কর্তৃপক্ষ দ্রুত রোগীদের আলাদা করে প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার দাবি করেছে। ফরাসি এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে ফ্রান্সে ফেরার পর ইউরোপীয় দেশগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, দ্রুত তহবিল সংগ্রহ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার না করা গেলে এই মহামারি পুরো মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে ফেলবে।
চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খনিজ সমৃদ্ধ ইতুরি প্রদেশের রোয়ামপারা ও মংবোয়ালু নামের দুটি খনি শহরে প্রথম ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে এটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ইতুরি, উত্তর কিভু ও উত্তরের হাউত-উয়েলেসহ অন্তত পাঁচটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের প্রাদুর্ভাবটি অত্যন্ত বিরল 'বুন্দিবুগিও' (Bundibugyo) ভাইরাসের প্রজাতির কারণে ঘটেছে, যার জন্য কার্যকর বা নিবন্ধিত কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা কিংবা ওষুধ নেই। ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ এবং রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রেয়েসুস সতর্ক করে জানিয়েছেন, কঙ্গোর ইতিহাসে যেকোনো পূর্ববর্তী প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এটি সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইবোলা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইতুরি অঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। আইএসআইএল (আইসিস) সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এডিএফ-এর (Allied Democratic Forces) অব্যাহত হামলা ও সহিংসতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। সহিংসতা থেকে বাঁচতে কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উপচে পড়া শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে চরম স্যানিটেশন সংকট ও ঘনবসতির কারণে ভাইরাসটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ডাক্তারের সীমানাহীন সংগঠন (MSF)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল রোগীর যোগাযোগের তালিকা তৈরি বা কন্টাক্ট ট্রেসিং করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, যা মোট আক্রান্তের মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এর ওপর সঠিক সুরক্ষাসামগ্রী না থাকায় আক্রান্তদের সৎকার করতে গিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সংক্রমিত হচ্ছেন, যেখানে প্রতিটি মৃতদেহ থেকে গড়ে অন্তত ১৭ জন নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
সংকটের গভীরতা বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতন এবং চিকিৎসকদের কর্মবিরতি। বেতনভাতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহের দাবিতে স্থানীয় শত শত স্বাস্থ্যকর্মী ধর্মঘট পালন করায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও কঙ্গো থেকে আসা সীমান্ত অতিক্রমকারী নাগরিকদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক উদ্বেগের জন্ম সৃষ্টি হয়েছিল, তবে উগান্ডা কর্তৃপক্ষ দ্রুত রোগীদের আলাদা করে প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার দাবি করেছে। ফরাসি এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে ফ্রান্সে ফেরার পর ইউরোপীয় দেশগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, দ্রুত তহবিল সংগ্রহ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার না করা গেলে এই মহামারি পুরো মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে ফেলবে।