এশিয়া

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ । দেশজুড়ে চলা শিক্ষার্থী বিক্ষোভ এবং বিরোধী জোটের এই নজিরবিহীন কর্মসূচির ফলে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

৭ বার পঠিত
মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
অবস্থান কর্মসূচি ও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস । লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থানকালে রাহুল গান্ধীকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয় পুলিশ । পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে তাঁকে হাত ও পা ধরে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের বাসে তোলা হয়, যা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে ।

দিল্লি পুলিশ কেবল রাহুল গান্ধীতেই থেমে থাকেনি। আন্দোলনস্থল থেকে তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও আটক করা হয় । পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং শীর্ষ নেতাদের এমন গণ-আটকের মাধ্যমে কংগ্রেসের ডাকা এই ঘেরাও কর্মসূচি কার্যত পণ্ড করে দেওয়া হয় ।

বিরোধী নেতাদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
আটকের সময় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মোদি সরকারকে সরাসরি 'ভীতু' বলে আখ্যায়িত করেন । তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, "তারা ভয় পেয়েছে, কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না" ।

অন্যদিকে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চলা নৈরাজ্য নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। বিশেষত 'নিট' (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং গত সোমবার শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান তিনি । তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার গুরুতর অভিযোগ আনেন এবং এর দায়ভার নিয়ে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন ।

নিট কেলেঙ্কারি ও দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাসহ (NEET) বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে তরুণ-নেতৃত্বাধীন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-এর ব্যানারে দেশটিতে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন চলছে । লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন রাজপথে নেমে আসা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না।

গত সোমবার আন্দোলনরত হাজারো শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশ কঠোর দমনপীড়ন চালায় । নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর এমন অমানবিক হামলার পরই কংগ্রেস এই ছাত্র আন্দোলনের সাথে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করে এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় ।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
ঘটনার দিন সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে চলমান এই সংকট সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল । তবে, বিরোধী দলগুলো তাদের দাবিতে অনড় থাকে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো ধরনের আপস বা আলোচনায় তারা বসবে না । সরকারের আলোচনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং বিরোধী দলের অনড় অবস্থানের কারণেই পরবর্তীতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে শীর্ষ নেতাদের আটক করে ।

ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের এমন নজিরবিহীন আটকের ঘটনা সাধারণ জনগণের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী নেতাদের এমন আটকের ঘটনায় ভারতের চলমান শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করল । একদিকে রাজপথে শিক্ষার্থীদের লাগাতার বিক্ষোভ, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে মোদি সরকার বর্তমানে এক বহুমুখী চাপের সম্মুখীন।