ভূ রাজনীতি ও কূটনীতি
হরমুজ প্রণালী সংকট: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দায় চাপাল ইরান
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করেছে ইরান। টানা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই প্রথমবারের মতো শনিবার মধ্যরাতে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন করে কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পারস্য উপসাগরে নৌপথের বাণিজ্যিক জট কাটাতে উভয় পক্ষই পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
আমেরিকান বিমান হামলা ও দুই পক্ষের সামরিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা এবং সামরিক সংঘাত তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ মার্কিন নীতি ও উসকানিমূলক পদক্ষেপের ফল। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান গ্যারান্টি চেয়েছে যেন পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ থাকে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা বলবৎ না করে। অন্যভাবে, ওয়াশিংটন ও তার সহযোগীরা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সামরিক চাপ এবং হুমকির কাছে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। তিনি মন্তব্য করেন যে, কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনার পথ সবসময় খোলা রয়েছে, তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আগ্রাসী নীতি পরিহার করে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ এবং পাল্টাপাল্টি সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।
সংকট নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে ওমান, কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওমানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ওমান প্রস্তাব করেছে কিভাবে হরমুজ প্রণালীতে নৌযানের ট্রাফিক ও ফি প্রদান ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা যায়, যা উভয় পক্ষ গ্রহণ করলে সংঘাত হ্রাস পেতে পারে।
এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে অব্যাহত পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
যদিও সামরিক হামলার মাত্রা কিছুটা কমে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের ঝুঁকিমুক্ত হওয়া এখনও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশ্ব বাজারের উত্তাপ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার এই চলমান পরোক্ষ আলোচনা কোনো টেকসই যুদ্ধবিরতি ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তায় রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
আমেরিকান বিমান হামলা ও দুই পক্ষের সামরিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা এবং সামরিক সংঘাত তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ মার্কিন নীতি ও উসকানিমূলক পদক্ষেপের ফল। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান গ্যারান্টি চেয়েছে যেন পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ থাকে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা বলবৎ না করে। অন্যভাবে, ওয়াশিংটন ও তার সহযোগীরা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সামরিক চাপ এবং হুমকির কাছে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। তিনি মন্তব্য করেন যে, কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনার পথ সবসময় খোলা রয়েছে, তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আগ্রাসী নীতি পরিহার করে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ এবং পাল্টাপাল্টি সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।
সংকট নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে ওমান, কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওমানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ওমান প্রস্তাব করেছে কিভাবে হরমুজ প্রণালীতে নৌযানের ট্রাফিক ও ফি প্রদান ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা যায়, যা উভয় পক্ষ গ্রহণ করলে সংঘাত হ্রাস পেতে পারে।
এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে অব্যাহত পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
যদিও সামরিক হামলার মাত্রা কিছুটা কমে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের ঝুঁকিমুক্ত হওয়া এখনও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশ্ব বাজারের উত্তাপ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার এই চলমান পরোক্ষ আলোচনা কোনো টেকসই যুদ্ধবিরতি ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তায় রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।