ভূ রাজনীতি ও কূটনীতি

মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবি: ৫ শতাধিক নিহতের আশঙ্কা

মিয়ানমার উপকূলে ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। প্রবল বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই নৌকা দুটি নিখোঁজ হওয়ার পর যাত্রীদের সবার প্রাণহানির গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা।

১১ বার পঠিত
মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবি: ৫ শতাধিক নিহতের আশঙ্কা
নৌকাডুবির ঘটনা ও নিখোঁজ: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দুটি নৌকা সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেছিল।

যাত্রীদের পরিসংখ্যান: প্রথম নৌকাটিতে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী ছিল, যা যাত্রার কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন যাত্রী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়াবতী (Ayeyarwady) উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝুঁকি: সাধারণত বর্ষাকালে সাগর উত্তাল থাকায় এমন সমুদ্রযাত্রা এড়িয়ে চলা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার মধ্যেই মানব পাচারকারীদের প্ররোচনায় ঝুঁকি নিয়ে করা এই সমুদ্রযাত্রা অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের অন্যান্য মৃত্যু: সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ ঘটনার আগে, এ বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি মিলিয়ে আরও অন্তত ৩০০ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে সংস্থাগুলো।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতার শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে বাংলাদেশের জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য ও অন্যান্য বরাদ্দ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে, রাখাইনে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতের কারণে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথও কার্যত অবরুদ্ধ। নিজ দেশে ফেরার আশা ক্ষীণ এবং ক্যাম্পের মানবেতর জীবনের কারণে তারা মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ বেছে নিচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, গত বছর (২০২৫ সাল) সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা সাগরপথে পালানোর চেষ্টা করেন এবং প্রায় ৯০০ জন মারা যান বা নিখোঁজ হন। এটি ছিল সমুদ্রপথে অভিবাসনের ইতিহাসে বিশ্বের যেকোনো রুটের চেয়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের রেকর্ড।

উপকূলীয় এই ট্র্যাজেডি প্রমাণ করে যে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে এখনো কোনো কার্যকর ও টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) ও ইউএনএইচসিআর এই মর্মান্তিক প্রাণহানি এড়াতে এবং মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে জোরদার তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের সমন্বিত ও দৃশ্যমান উদ্যোগ ছাড়া বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের এই মৃত্যুফাঁদ বন্ধ হওয়া কার্যত অসম্ভব।